আজিজুর রহমান আজম :
আজকে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরাম UTFএর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান এমপিওভূক্ত জাতীয় করণ প্রত্যাশী জোট ও বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম এর কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আগামী চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলা করতে যারা দিনরাত পরিশ্রম করে এ প্রজন্মকে ভবিষ্যতে দক্ষ ও যোগ্য করতে অনবরত কাজ করে যাচ্ছেন। তারা হলেন জাতির নির্মাতা শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।
কিন্তু আমরা খুব হতাশার সাথে লক্ষ্য করছি আমাদের বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ কমাতে কমাতে ১.৫৩% তলানিতে এসে পৌঁছেছে।
কিন্তু মহান স্বাধীনতার মূল ছিল মন্ত্র ছিল বৈষম্য মুক্ত ও দুনীর্তিমুক্ত একটা সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা।
কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ পরেও যত গুলো সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতা অধিষ্ঠিত হয়েছে তারা শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ কমাতে কমাতে শিক্ষা ব্যবস্হাকে অযত্ন ও অবহেলা করতে লাগলো। তার প্রমাণ আমরা UNECCO স্বাক্ষরকারী দেশ। ইউনেস্কের মতে একটা রাষ্ট্রে জিডিপির বরাদ্দ থাকা দরকার ৬%। ক বিদ্যালয়ের
কিন্তু আমাদের নীতিনির্ধারকেরা## ইউনেস্কের এ ঘোষণা কে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ কমাতে কমাতে তলানিতে এসে পৌঁছে ছে।এ বরাদ্দ কমানোর ফলে শিক্ষকদের আলাদা বেতন কাঠামো গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বঙ্গের একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রায় ৩০ হাজার রুপি মত মাসিক বেতন ও সরকার প্রদত্ত অনেক সুযোগ ও সুবিধা পেয়ে থাকেন। অথচ আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্বেবিদ্যালয়ের একজন প্রভাষক, পশ্চিম বঙ্গের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে কম বেতন পেয়ে থাকেন।
অথচ সামজিক অনেক সূচকে আমরা ভারত ও পাকিস্তান থেকে অনেক এগিয়ে। যে দেশ নিজস্ব অর্থায়নে ২ লাখ কোটি টাকা দিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু তৈরি করতে পারেন। শুধু পদ্মা সেতু নয়, মেট্রোরেল, রূপনগর পারমাণবিক প্রকল্প, এর মত বড় বড় অবকাঠামো সরকার নির্মান করল।
কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও একটা জাতীয় শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন করতে সম্পূর্ণ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হল। যার খেসারত এ জাতীকে এখন দিতে হচ্ছে। কারণ এমপিওভূক্ত শিক্ষাক শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা বছরের শেষ সময় এসে তাদের রুটি রোজগারের আন্দোলন এর জন্য ক্লাস ছেড়ে এসে ঢাকার রাজপথে সংগ্রাম করতে হয়। এটা স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের জন্য বিরাট ট্রাজেডি। কারণ ৬ লাখ শিক্ষক, কর্মচারীরা তাদের পূর্ণাঙ্গ বাড়ি ভাড়া, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষা ভাতা, টিফিন ভাতা, চাকরি থেকে অবসরের পর তার যৌক্তিক পাওনা দাবি সমূহ পূরণ এর জন্য রাজপথে বার বার সংগ্রাম করতো হয়। অথচ বিশ্বের কোথায় শিক্ষকদের এ রকম অবহেলা বঞ্চিত রাখা হয় না।
তাই ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরাম এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নিকট আমাদের যৌক্তিক দাবি সমূহ পূরণ এর জন্য আমাদের কে সমর্থন দিয়ে যাবেন। আমরা যারপরনাই খুশি হয়েছি আজকে এ রকম বিশ্বেবিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক শিক্ষিকাদেরকে নিয়ে এরকম বড় একটি প্লাটফরম গঠন করার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আশা করি আপনারা যদি দেশের শিক্ষা ব্যবস্হার কাঠামোগত পরিবর্তন করতে চান, তাহলে আমি আমার সংগঠন একজন কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি। আমাদের ৬ লাখ শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারী আপনাদের যে কোন যৌক্তিক আন্দোলনে আপনাদের পাশে পাবেন। আর আমার মনে হয় শিক্ষকদের এ সংগঠন বাংলাদেশ এর পেশাজীবীদের একটা বড় সংগঠন হিসেবে ইনশাআল্লাহ আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে।
আজিজুর রহমান আযম, সিনিয়র সহসভাপতি বাবেশিকফো, কেন্দ্রীয় কমিটি ও যুগ্ম আহবায়ক, এমপিওভূক্ত জাতীয় করণ প্রত্যাশী জোট।
মোবাইল নাম্বার :০১৭১৬৫৪৭৪৫৭,০১৫৫০০০৫৯০৮ Email address :azam [email protected]