• রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
চট্টগ্রামে ইফতারের আগে স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় হাজির স্বামী,বাড়ি রামগঞ্জে  কমলনগরবাসীর ৩০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান: আলোর মুখ দেখছে স্বপ্নের মতিরহাট ফেরিঘাট মেঘনা নদী বাঁধের কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে : বাঁধ পরিদর্শনে পানিসম্পদ মন্ত্রী  কমলনগরে কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী মো. তামজিদ নিষেধাজ্ঞার মাঝেই মেঘনায় মাছ শিকার কমলনগরের বিভিন্ন ঘাটে গোপনে বিক্রি, প্রশ্নের মুখে নজরদারি উত্তর হামছাদী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মনজুর রহমান ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারের কাজ কাগজে-কলমে, বাস্তবে নেই যারা মুখে ইনসাফের কথা বলেন প্রকৃতপক্ষে তারা ইনসাফের রাজনীতি করে নাই, মানুষকে জিম্মি করে গুপ্ত রাজনীতি করেছে : পানিসম্পদ মন্ত্রী রায়পুরে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা লক্ষ্মীপুরের রাধাপুরে পুলিশের মধ্যরাতের অভিযান: বিদেশি রিভলবার ও ৪৬ রাউন্ড গুলিসহ যুবক আটক

কমলনগরে আদালতের স্থগিতাদেশ গোপন রেখে একযুগ ধরে  ৪ হাজার বিবাহ নিবন্ধন করেন ‘কাজী’! প্রতারনার শিকার জনগন -রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

Reporter Name / ৪১৭ Time View
Update : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)  উপজেলা সংবাদদাতা :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অসদুপায়ে নিয়োগ হাসিলকারী নিকাহ রেজিস্ট্রার আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতের স্থগিতাদেশ গোপন রেখে একযুগ ধরে বাল্য বিবাহ বহুবিবাহসহ ৪ হাজার বিবাহ ও হাজারের মতো তালাকনামা নিবন্ধন করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার কাজী আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ১২ বছরে প্রায় ৪ হাজার বিবাহ নিবন্ধন করে জনগণের  কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার ভয়াবহ তথ্য ফুটে উঠেছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় কমলগরের চর কাদিরা ইউনিয়নের অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য ও তথ্য গোপনের মাধ্যমে  বিগত ১০ নভেম্বর ২০১৩ খ্রিঃতারিখের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৭/২ এন-২৭/২০১১-১৪৮০/১(৯)এর আলোকে নিকাহ রেজিস্ট্রারের মতো লোভনীয় ও  আভিজাত্যপূর্ণ পদ হাসিল করে থাকেন।পতিত সরকারের  কারারুদ্ধ বিতর্কিত তৎকালিন মন্ত্রী কামরুল ইসলাম আইন প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর দপ্তরাধীনে ২০১৩ সালে সরকারের মেয়াদান্তে তড়িঘড়ি করে কোনরূপ যাচাই বাছাই না করে জনপ্রতি দশ লক্ষাধিক টাকা চুক্তিতে শ’খানেক নিয়োগ দিয়ে যান।সেই নিয়োগেই ভাগ বসান নানা অভিযোগে অভিযুক্ত কমলনগরের আবদুর রহমান।উল্লেখ্য, নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ বিধিমালায় সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে,’একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ প্রত্যাশীকে অবশ্যই নিয়োগ লাভের জন্য শূন্য অধিক্ষেত্রের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে ‘। কিন্তু বিতর্কিত আবদুর রহমান সম্পূর্ণ তথ্য গোপনের মাধ্যমে অন্য ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্বেও চর কাদিরা ইউনিয়নে নিয়োগ হাসিল করেন।যা নিকাহ রেজিস্ট্রার বিধিমালা ২০০৯’ এর ১১ বিধিমতে অসদাচরণ ও চাকুরি হতে বরখাস্তযোগ্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, আবদুর রহমানের স্থায়ী আবাস কমলনগরের হাজির হাট ইউনিয়নের ২ নাম্বার ওয়ার্ডস্থ লরেঞ্চ বাজারের পূর্বপার্শ্বে রুচনের বাপের বাড়ি। তিনি নোয়াখালী জেলাতে পড়াশোনা করার সুবাদে নোয়াখালীতে ভোটার হন। অথচ নিয়োগ নিলেন কমলনগর উপজেলার ৮নং চর কাদিরা ইউনিয়নে!১০ নভেম্বর ২০১৩’ তারিখে অবৈধ উপায়ে নিয়োগ লাভের পরে তিনি ২০ নভেম্বর ২০১৩’ তারিখে চর কাদিরা ইউনিয়নে  জমিন খরিদ করে নোয়াখালী থেকে ভোটার স্থানান্তর করে চর কাদিরায় ভোটার তালিকাভূক্ত হন।
হাজির হাট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং চর কাদিরার কোনরুপ বাসিন্দা না হওয়ায়  তাঁর অবৈধ নিয়োগ আদেশ বাতিলের জন্য তৎকালিন চর কাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশ্রাফ উদ্দিন রাজন  আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয় ১৬ নভেম্বর ২০১৩ খ্রিঃ তারিখে  ও ১১ ডিসেম্বর ২০১৩’ তারিখে লক্ষ্মীপুর জেলা রেজিস্ট্রার  বরাবর একখানা আবেদন দাখিল করেন।এ ছাড়া চর কাদিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা নহে মর্মে প্রত্যয়ন প্রদান করেন এবং তৎকালীন হাজির হাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল বাছেত হেলাল তৎসময়ে অভিযুক্ত  আবদুর রহমান হাজির হাট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা মর্মেও প্রত্যয়ন পত্র ও জন্ম নিবন্ধন প্রদান করেন।
তথ্য গোপনের মাধ্যমে নিয়োগ হাসিলকারী আবদুর রহমানের নিয়োগাদেশ বাতিল ও স্থগিত চেয়ে চর কাদিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা জনৈক মোসলেহ উদ্দিন মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন দাখিল করলে মহামান্য হাইকোর্ট ১৮ মে ২০১৪’ খ্রিঃ তারিখে তাঁর নিয়োগাদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। উক্ত স্থগিতাদেশ গোপন ও অমান্য করে জেলা ও উপজেলা বিভাগীয় দপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে আবদুর রহমান টানা একযুগ ধরে হাজার হাজার বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করে জনগণের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
বিশদ বিবরনে জানা যায়, আবদুর রহমান নিজে ১২ বছরের স্থগিতাদেশ গোপন করে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে অন্ধকারে রেখে স্থগিতাদেশ অবস্থায় বিগত ২৯ জুন ২০২৫’ তারিখে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের এক আদেশে কমলনগরের হাজির হাট ইউনিয়নের শূন্য অধিক্ষেত্রে অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিনিয়ে নেন এতে বিপত্তি ঘটে তার। বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।ইউনিয়নটির নিকাহ রেজিস্ট্রার অবসর নেয়ার পরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন উপজেলার লরেঞ্চ ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ কাজী আবদুল লতিফ। কিন্তু আবদুর রহমান অদৃশ্য কারণে তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার কে ম্যানেজ করে তাঁর পিআরএলে গমনের আগের দিন তথা অবসর গমনের (পূর্বদিন)কর্মদিবসে আবদুল লতিফের অতিরিক্ত দায়িত্বের আদেশ বাতিল করে  একযুগ স্থগিতাদেশে থাকাবস্থায় চর কাদিরা ইউনিয়নের কাজী আবদুর রহমানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হাসিল করেন।
এর পরপরই আবদুর রহমানের নিয়োগকালীন অসঙ্গতি, রীট পিটিশনের স্থগিতাদেশ গোপন রাখা ও নানাবিধ অনিয়ম দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য, চিত্র উদঘাটন ও প্রকাশ হতে থাকে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তাঁর স্থগিতাদেশ থাকার কথা তিনি জানতেননা, বর্তমানে আমি (রহমান) ১৯ আগস্ট ২০২৫ খ্রিঃ তারিখে মামলা থেকে অব্যহতি পেয়েছি ।এতে উপস্থিত সংবাদকর্মী রহমানকে  জানতে চান,’স্থগিতাদেশ সম্পর্কে অবগত না থাকলে কিভাবে ১২ বছর পরে মামলা থেকে অব্যহতি নিলেন?এবং রীট পিটিশনের শুনানির জন্য তিনি নিজেই আগে কিভাবে ব্যবস্থা নিলেন?তাকে আরো জানতে চাওয়া হয়,’টানা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে স্থগিতাদেশ গোপন রেখে কতটা বালাম বহি বা কতটা বিবাহ নিবন্ধন করেছেন? তখন তিনি জানালেন প্রায় ৩৬ টা বালাম বহিয়ে ৩৬০০ খানা বিবাহ ও হাজারের মতো তালাক রেজিস্ট্রি করে থাকেন।এ ছাড়া তাঁর নিয়োগকালীন সময়ে তথ্য গোপন করে স্থায়ী বাসিন্দা না হয়ে অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়া সত্বেও অবৈধ উপায়ে নিয়োগ হাসিল করার বিষয়ে জানতে চাইলে  তিনি এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।নিয়োগ নেয়ার পরে নোয়াখালী জেলার ভোটার থেকে স্থানান্তরের জন্য বিগত ২০ নভেম্বর ২০১৩’ তারিখে নিজ নামে জমিন খরিদ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাও এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে উপজেলার চর লরেঞ্চ ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার ও হাজির হাট ইউনিয়নের প্রথম অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্রাপ্ত কাজী আবদুল লতিফ জানান, অভিযুক্ত আবদুর রহমান নিয়োগকালীন সময়ে অসত্য তথ্য দিয়ে নিয়োগ লাভ করেন যাহা জনৈক ব্যক্তির রীট পিটিশন মামলায় তাঁর নিয়োগ স্থগিত করলেও তিনি তথ্য গোপনের মাধ্যমে আদালত অবমাননা করে নিকাহ রেজিস্ট্রি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।এছাড়া আবদুর রহমান নিজের ১২ বছরের স্থগিতাদেশ গোপন রেখে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসকে ভুল বুঝিয়ে আমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হাজির হাট ইউনিয়নের দায়িত্ব থেকে কোন কারন ব্যতিরেকে  বাতিল করিয়ে (আবদুর রহমান) নিজেই অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে থাকেন।তিনি আরো বলেন আবদুর রহমান নিয়োগকালীন সময়ে অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়া সত্বেও বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেন এবং স্থগিতাদেশ গোপন রেখে টানা ১২ বছর নিকাহ রেজিস্ট্রি কাজ পরিচালনা করে আসছেন এছাড়া স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকাবস্থায়  আমাকে দেয়া অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিনিয়ে নেয়ায় আমি জেলা রেজিস্ট্রার ও সচিব আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয় বরাবর তাঁর চর কাদিরা ইউনিয়নের অবৈধ নিয়োগ বাতিলের জন্য আবেদন করে থাকি।
এ দিকে অনিয়ম দুর্নীতি ও তথ্য গোপনের মাধ্যমে নিকাহ রেজিস্ট্রির মতো মহান পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় এবং টানা ১২ বছর স্থগিতাদেশ গোপন করে প্রতারনামূলক বিবাহ নিবন্ধন করায় আবদুর রহমানের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন চর কাদিরা ইউনিয়নের চর পাগলা গ্রামের আবদুর রহিম,আবুল কাশেম চর ঠিকার মোস্তফা, শামিম, চর বসু গ্রামের বেলাল,শাহজালালসহ ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকসমাজ।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর  জেলা রেজিস্ট্রার সালাহ উদ্দিন জানান, আমি মূলত ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে লক্ষ্মীপুরে দায়িত্ব পালন করেছি।পূর্বেকার জেলা রেজিস্ট্রার কিভাবে নিয়োগ স্থগিতাদেশ থাকা ব্যক্তিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছেন তা আমার জানা নাই।আর টানা একযুগ ধরে অভিযুক্ত আবদুর রহমান স্থগিতাদেশ গোপন করে নিকাহ রেজিস্ট্রি কাজ পরিচালনা করার বিষয় ও তাঁর নিয়োগকালীন তথ্য গোপনের বিষয়ে অভিযোগের আলোকে অচিরেই তদন্ত করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd