প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১৫, ২০২৬, ৫:০৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১৫, ২০২৬, ১:২৪ এ.এম
কমলনগরবাসীর ৩০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান: আলোর মুখ দেখছে স্বপ্নের মতিরহাট ফেরিঘাট

ফিরোজ আলম পরশ :
দীর্ঘ তিন দশকের আইনি জটিলতা, প্রশাসনিক লড়াই আর স্থানীয়দের নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে বাস্তবায়নের পথে লক্ষ্মীপুরবাসীর স্বপ্নের ‘মতিরহাট ফেরিঘাট’ প্রকল্প। গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে মতিরহাট এলাকায় টি-পি পন্টুন স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। যা এক সময় কেবল কল্পনা ছিল, তা এখন দৃশ্যমান বাস্তব।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মতিরহাট এলাকায় ফেরিঘাটের জন্য প্রথম দাপ্তরিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই আবেদনটি দীর্ঘ সময় প্রশাসনিক ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে ছিল। দীর্ঘ ২০ বছর পর ২০১৫ সালে এই আবেদন পুনরুজ্জীবিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
বিআইডব্লিউটিএ (BIWTA) চট্টগ্রাম সিবিএ-এর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও চর কাদিরা ইউনিয়নের কৃতি সন্তান আব্দুল বাতেন বিপ্লব। তিনি স্থানীয় আইয়ুব আলীর মাধ্যমে ঢাকায় পুনরায় আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেন।
এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নে শুরু থেকেই নিরলস কাজ করেছেন একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। আবেদনের যাবতীয় খরচ বহন করে পাশে দাঁড়িয়েছেন মো. ছবুর খান। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন মো. গিয়াস উদ্দিন রকি মোল্লা এবং মো. আজাদ উদদীন।
সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টায় ২০২১ সালে ঢাকা থেকে ফেরিঘাটের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২৫ সালে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্ব পায় বিশ্বব্যাংক (World Bank)। বর্তমানে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পন্টুন স্থাপনের মাধ্যমে এখন পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।
প্রকল্পের এই সাফল্যে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মূল উদ্যোক্তা আব্দুল বাতেন বিপ্লব বলেন, "এলাকার উন্নয়নের জন্য শ্রম ও ঘাম দিয়েছি। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আজ এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।"
সহযোগী গিয়াস উদ্দিন রকি মোল্লা স্মৃতিচারণ করে বলেন, "শুরুর দিকে যখন খালি মাঠে কাজ শুরু করি, অনেকে অনেক নেতিবাচক কথা বলেছিল। আজ আল্লাহ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।" বিপ্লবের ছোট ভাই খোকন জানান, প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাইনবোর্ড লাগানোর দিনগুলো আজ সার্থক হয়েছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মতিরহাট ফেরিঘাট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর এবং চট্টগ্রামের মধ্যে সড়ক যোগাযোগে এক বিশাল বিপ্লব ঘটবে। রাজধানী ঢাকার ওপর যানজটের চাপ কমিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের পণ্যবাহী যানবাহন সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারবে।
এতে শুধু কমলনগর বা লক্ষ্মীপুরবাসী নয়, বরং সারা দেশের পরিবহন খাতে সময় ও অর্থ—উভয়ই সাশ্রয় হবে।স্থানীয় জানান আব্দুল বাতেন বিপ্লবসহ যারা এই অবহেলিত প্রকল্পটিকে প্রাণ দিয়েছেন, তাদের এই অবদান কমলনগর ও রামগতি অঞ্চলের ইতিহাসে এক স্বর্ণোজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে থাকবে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫