রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্যে সরকারি খাল দখল করে রাতের আঁধারে অবৈধ সেতু নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৩ নং ভাদুর ইউনিয়নের হানুবাইশ খাল—যা এলাকাবাসীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম—সেই খালটি দখল করে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাফর শাহিন নামের এক ব্যক্তি কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন, নকশা বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই খালের ওপর সেতু নির্মাণ করেন। নির্মাণকাজ চলাকালীন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি প্রভাবের কারণে নির্বিকার থেকেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর?
অভিযোগ অস্বীকার করে জাফর শাহিন দাবি করেন, সেতুটি তাঁর নিজস্ব জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, হানুবাইশ খাল সরকারি খতিয়ানভুক্ত এবং বহু বছর ধরে এটি উন্মুক্ত জলপ্রবাহ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “এটা সরকারি খাল—কাগজপত্রেই প্রমাণ আছে। খাল দখল করে সেতু বানানো হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করলেও কেউ শোনেনি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ সেতু নির্মাণের ফলে খালের স্বাভাবিক পানি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। পরিবেশ ও জলাধার রক্ষা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগ ওঠার পরও নির্মাণকাজ কীভাবে নির্বিঘ্নে রাতের আঁধারে চলে? প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি, না কি প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অবৈধ কাজ চলছে—তা নিয়েই এখন এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, শুধু তদন্তের আশ্বাস নয়—অবিলম্বে অবৈধ সেতু অপসারণ করে খালটি দখলমুক্ত করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
রামগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, “খাল বা জলাশয় দখল গুরুতর অপরাধ। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনা বলেন, “সরকারি খাল দখল বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ আইনবিরোধী। অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”