রামগঞ্জ ( লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ সেচ খাল শুকিয়ে যাওয়ায় পানি সংকটে বোরো ধানের চারা লাল হয়ে পুড়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও চাষ করা জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন রামগঞ্জ উপজেলার হাজারো কৃষক। চাঁদপুর সেচ প্রকল্প থেকে লক্ষ্মীপুরে পানি না আসায় বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। শনিবার (১৫ মার্চ) সরজমিনে গিয়ে উপজেলার ইছাপুর, চন্ডীপুর, লামচর ও পৌর শহরের কয়েকটি এলাকায় এই চিত্র দেখা গেছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত খাল পুনঃখনন ও বিকল্প সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের আওতায় রামগঞ্জ ও রায়পুরে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার খালে সেচ সুবিধা দেওয়া হলেও ১৯৭৮ সালে স্থাপিত বাগাতি পাম্প হাউসের পাম্প গুলোর কার্যক্ষমতা কমে বর্তমানে প্রায় ৩০শতাংশে নেমেছে।ফলে আগের তুলনায় পানি উত্তোলন কমে গেছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে এবং রামগঞ্জ উপজেলায় ৯ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে অন্তত ১২৫ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্ভব হয়নি। আবাদ হওয়া জমিতেও তীব্র পানি সংকট চলছে। উত্তর চন্ডীপুর গ্রামের কৃষক মনির হোসেন বলেন, ‘আমি প্রায় ৩ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। মৌসুমের শুরুতে খালে কিছু পানি ছিল, সেই পানি দিয়ে কোনোভাবে চারা লাগাইছি। এখন খালে একে বারেই পানি নাই। চারা বাঁচাইয়া রাখা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত পানি না পাইলে পুরো জমির ধান নষ্ট হইয়া যাইব।
পশ্চিম চন্ডীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর মতিন বলেন, আমি ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করছি। সার-বীজ কিনতে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হইছে। এখন যদি সময়মতো সেচের পানি না পাই, তাহলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হইব। ঋণের টাকাও শোধ করা কঠিন হয়ে যাবে। আবার খালে পানি না থাকায় প্রস্তুত জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। শিবপুর-ইছাপুর এলাকার কৃষক রহিম গাজী বলেন, প্রায় ২ বিঘা জমি প্রস্তুত করে রাখছি বোরো রোপণের জন্য। কিন্তু খালে পানি না থাকায় এখনও রোপণ করতে পারতেছি না। সময় চলে গেলে ফলন কমে যাবে, তখন আমাদের লোকসান গুনতে হবে। একই এলাকার কৃষক জাবেদ খান বলেন, আমরা ধার-দেনা করে চাষ করি। পানি না থাকলে সব খরচ জলে যাবে, পরিবার নিয়ে বিপদে পড়তে হবে।
চন্ডীপুর এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের বিকল্প সেচ পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, সেচ সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলেন, চাঁদপুর সেচ প্রকল্প থেকে লক্ষ্মীপুরে পানি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ফসল উৎপাদনের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে, কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। মেঘনা নদীর রায়পুর অংশের অপেক্ষাকৃত মিষ্টি পানি খালের মাধ্যমে আনার প্রকল্প নেওয়া গেলে বোরো আবাদ নিশ্চিত হবে।