মাহমুদুর রহমান মনজু :
লক্ষ্মীপুরের রামগতির দক্ষিণাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। তবে জেএসডির সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে জেএসডির সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর পরপরই জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এক পাল্টা প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেএসডির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল অভিযোগ করেন, রামগতির বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না করা হলে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “সেনা ক্যাম্প স্থাপন ও অস্ত্র উদ্ধার না হলে ভোটের বাক্স নদীর দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।”
জেএসডির এসব অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাছিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের বিরুদ্ধে জেএসডি নেতৃবৃন্দের বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নেতা আ স ম আবদুর রবকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করে বিএনপি।
বিএনপির বিবৃতিতে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়, যারা সন্ত্রাস ও সহিংসতার অভিযোগ তুলছেন, তাদেরই নেতা আ স ম আবদুর রব ১৯৮৬ সালে জীতেন্দ্র ও পাটোয়ারী হত্যাকাণ্ড এবং ভোট ডাকাতির মাধ্যমে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপি কখনো সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ে রাজনীতি বা নির্বাচন করে না বলেও দাবি করা হয়।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, রামগতি–কমলনগরের জনগণ আগামী ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে এই অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগের জবাব দেবে।