মিজানুর শামীমঃ
নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অন্য কোম্পানির লোগো ব্যবহার করে নকল পানীয় উৎপাদন করায় লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্প নগরীর এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। "আশরাফ ফুড" নামক ম্যাংগো ড্রিংক পাউডার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি ট্রেড লাইসেন্স ও বিএসটিআই অনুমোদন ব্যতীত একাধিক নামীয় লোগো ব্যবহার করে নকল পণ্য উৎপাদন করছিলো। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, ভেজাল খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে ১৯ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ভেজাল খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনের দায়ে 'নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩' এর ৩৯ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে "আশরাফ ফুড"কে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করে বিনষ্ট করা হয় এবং কিছু যাচাইয়ের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল সিদ্দিকার নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী ও পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের লক্ষ্মীপুরের খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তীর নিকট মুঠোফোনে জব্দকৃত ভেজাল পণ্যের পরিমাণ ও এগুলো কি করা হবে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, কোনো পণ্য জব্দ করা হয়নি। জেলা প্রশাসনের ফেসবুক আইডিতে যিনি লিখেছেন তিনি সঠিক লিখেননি। অভিযানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভেজাল পণ্য উৎপাদন দায়ে আশরাফ ফুডকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। এবং আশরাফ ফুড এর মালিক শাহীন সবুজকে জেলা প্রশাসন থেকে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না আনা পর্যন্ত এসব ভেজাল পণ্য উৎপাদন করতে নিষেধ করা হয়েছে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ব্যবসা বানিজ্য) জান্নাতুল সিদ্দিকা এ প্রতিবেদককে বলেন, আশরাফ ফুড কর্তৃপক্ষ ট্রেড লাইসেন্স এবং বিএসটিআই এর অনুমোদন না নিয়ে অন্য কোম্পানির লোগো ব্যবহার করে ভেজাল পণ্য উৎপাদন করছিলো। আমরা তাদেরকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করি এবং জব্দকৃত ভেজাল পণ্যগুলো বিনষ্ট করে দেই। তাদের উৎপাদিত কিছু পণ্যের স্যাম্পল নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষের নিকট মান যাচাইয়ের জন্য দেয়া হয়েছে।