বিশেষ প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে মহিলা জামায়াতের কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তর্কাতর্কির একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের পুরুষ নেতাকর্মীরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে।
মারামারির ঘটনায় আহত কয়েকজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদেরকে দেখতে রবিবার রাতে প্রথমে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া হাসপাতালে যান। এসময় তিনি বিএনপির ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামে মারামারির ঘটনা ঘটে। রাতেই স্থানীয় বাজারে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে জামায়াত।
পরে রাতেই একই আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া হাসপাতাল গিয়ে আহতদের খোঁজ খবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি মারামারি ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত বলে দাবি করেন।
স্থানীয় লোকজন জানায়, জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে পোদ্দার বাজারের পাশে একটি বাড়িতে মহিলা কর্মীরা প্রচারণায় গেলে স্থানীয় বিএনপি'র লোকজন বাঁধা দিয়ে গালমন্দ করে। এ ঘটনায় বশিকপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাইন উদ্দিন তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলেন জামায়াত নেতা মাইন উদ্দিন, কর্মী আবু তৈয়ব, যুব বিভাগের নেতা মো. তারেক, জুয়েল হোসেন, রিয়াদ হোসেন ও রুবেল হোসেন।
সদর উপজেলা (পশ্চিম) বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন বলেন, বিএনপি নেতা ইকবালসহ নেতাকর্মীরা ধানের শীষের প্রচারণা করছিল। তখন মহিলা জামায়াতের লোকজন একটা ঘরে ছিল। সেখানেই হঠাৎ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীরসহ কয়েকজন এসে উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি করে। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। বড় ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি।
জামায়াতের প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, মাঠ পর্যায়ে বিএনপির ভোট নেই। তাই তারা পাগল হয়ে গেছে। আমরা আজকের হামলার নিন্দা জানাই । এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, ভুল বুঝাবুঝির কারণে বশিকপুরে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। ছোট খাটো ঘটনা হলেও এটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি নির্বাচনের জন্য। এসব অপ্রত্যাশিত ঘটনা কাম্য নয়। যেভাবেই হোক দ্রুত বিষয়টি সমাধান করার জন্য স্থানীয় নেতাদের বলেছি।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, প্রচারণাকালে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য পোদ্দার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কোন পক্ষ থেকে আমরা অভিযোগ পাইনি।