বিশেষ প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি’র উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেএসডি কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় মুখপাত্র অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুর-৪ নির্বাচনী এলাকার চরাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক ভোটার জলদস্যু, স্থলদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে হাতিয়া ও রামগতির বয়ারচরের জলদস্যু এবং স্থানীয় স্কুল দস্যুদের সমন্বয়ে গঠিত চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যালট পেপার ও ভোটের বাক্স লুটের মহাপরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ প্রেক্ষাপটে রামগতির ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলে নির্বাচনকালীন স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান জেএসডি নেতা।
তিনি বলেন, গত চার দশকে এই চরাঞ্চলের মানুষ কখনোই নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। বরাবরই জলদস্যু ও সশস্ত্র ডাকাত চক্র নির্বাচনের নিয়ামক শক্তি হিসেবে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট বেলাল বলেন, এই নির্বাচন কোনো প্রচলিত ক্ষমতা হস্তান্তরের লড়াই নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো রূপান্তরের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। জনগণ বহুবার রক্ত দিয়ে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটালেও রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিকানা কখনো জনগণের হাতে আসেনি। ক্ষমতা এক গোষ্ঠী থেকে আরেক গোষ্ঠীর হাতে গেলেও শোষণের কাঠামো অপরিবর্তিত থেকেছে।
তিনি জানান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল এই চক্র ভাঙতে চায়। জেএসডির রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো- গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সাংবিধানিক সংস্কার, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালু, শ্রমজীবী-কর্মজীবী-পেশাজীবীদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা।
তিনি আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই এই রূপান্তরের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট অর্জন সম্ভব। তাই এই নির্বাচন কেবল গদি দখলের প্রশ্ন নয়; এটি জনগণের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্র সংস্কারের সন্ধিক্ষণ। ভোট মানেই শুধু প্রতিনিধি নির্বাচন নয়, ভোট মানেই রাষ্ট্রের মালিকানা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত।
লক্ষ্মীপুর-৪ নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মর্যাদা, মতপ্রকাশ ও ভোটাধিকার সংকুচিত হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ রামদয়াল বাজারে জেএসডির নেতাকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ, পরিকল্পিত হামলা, মিথ্যা মামলা ও রক্তাক্ত জখমের ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে। এসব বিষয়ে এসবি, এনএসআই, ডিজিএফআই, র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগ ও স্থানীয় পুলিশ অবগত থাকলেও এখনো কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, রামগতির চর রমিজ ও চরগাজীতে মাফিয়া চক্রের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হচ্ছে। লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। আদৌ উদ্ধার হবে কি না-সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি বলেন, বর্তমানে ভোটের অধিকার জলদস্যু ও স্থলদস্যুদের কব্জায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সেনাবাহিনী প্রধান, রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন- অবিলম্বে অস্ত্র উদ্ধার করুন, অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করুন এবং জনগণকে নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করুন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জেএসডি সভাপতি অধ্যক্ষ মনছুরুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, হাজী আকবর হোসেন, জহির উদ্দিন, মিঞা মনির মাস্টার, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও জাকির হোসেন নান্টু প্রমুখ।