• মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
কমলনগরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে চাচাতো ভাইকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, গ্রেপ্তার ১ লক্ষ্মীপুরের কুশাখালীতে গৃহকর্তাকে বেঁধে ৬০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট, গ্রেপ্তার ৫ রামগঞ্জে সেচ খাল শুকিয়ে যাওয়ায় বোরো ধানের চারা সংকটে, ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকরা লক্ষ্মীপুরে জ্বালানি বাজার ও বাস কাউন্টারে প্রশাসনের কড়া নজর চট্টগ্রামে ইফতারের আগে স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় হাজির স্বামী,বাড়ি রামগঞ্জে  কমলনগরবাসীর ৩০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান: আলোর মুখ দেখছে স্বপ্নের মতিরহাট ফেরিঘাট মেঘনা নদী বাঁধের কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে : বাঁধ পরিদর্শনে পানিসম্পদ মন্ত্রী  কমলনগরে কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী মো. তামজিদ নিষেধাজ্ঞার মাঝেই মেঘনায় মাছ শিকার কমলনগরের বিভিন্ন ঘাটে গোপনে বিক্রি, প্রশ্নের মুখে নজরদারি উত্তর হামছাদী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মনজুর রহমান ভূঁইয়া

রায়পুরে নদীগর্ভে ডুবে যাচ্ছে আলতাফ মাস্টার ঘাট

Reporter Name / ৩০৭ Time View
Update : রবিবার, ১ জুন, ২০২৫

প্রদীপ কুমার রায়:
একসময় বিকেল নামলেই মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠত ঘাটের পাড়। নদীর হাওয়ায় জেগে উঠত প্রাণ, ভেসে আসত স্থানীয়দের হাসির শব্দ। এখন সেখানে শূন্যতা, আতঙ্ক আর নদীভাঙনের ক্রমশ গিলে ফেলা স্মৃতি।

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেঘনার কোল ঘেঁষা গড়ে ওঠা আলতাফ মাস্টার ঘাট ছিল উপজেলার একমাত্র গড়ে ওঠা পর্যটন কেন্দ্র। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদীর নৈসর্গিক টান আর স্থানীয় আলতাফ মাস্টারের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই স্থানটি এখন ভাঙনের মুখে। আলতাফ মাস্টার ঘাটের পশ্চিম অংশ থেকে শুরু হয়েছে মাটি সরে যাওয়া। প্রথমে বাঁধের মাটি ভাঙে, তারপর সিঁড়ি, এখন পুরো ঘাট এলাকা হুমকির মুখে।

স্থানীয়রা বলছেন, এটা শুধু একটা ঘাট ছিল না, আমাদের অস্তিত্বের একটা অংশ ছিল। প্রতিদিন একটু একটু করে নদী গিলে খাচ্ছে ঘাটটা, আমাদের চোখের সামনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অথচ যেন কিচ্ছু করার নেই কারো।

স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলতাফ মাস্টার নিজ উদ্যোগে এই ঘাট গড়ে তোলেন প্রায় এক সাত বছর আগে। প্রথমে এটি ছিল যাতায়াতের একটি ঘাট। পরে ধীরে ধীরে বাঁশের ছাউনি, বাঁধানো সিঁড়ি, পাশে গড়ে ওঠা চায়ের দোকান আর শিশুদের খেলার জায়গা মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে একটি প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র। আধুনিক রেস্টুরেন্টের সব সুবিধা নিয়ে গড়ে ওঠে কলাপাতা রেস্তোরাঁ, জলপরী রেস্টুরেন্ট, নিউ দরবার, রিভার ভিউ রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন পন্য সামগ্রির দোকান।

নিউ দরবারের মালিক আলাউদ্দিন খান বলেন জলপরী ও কলাপাতা রেস্তোরাঁ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ইতিমধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে রিভার ভিউ রেস্টুরেন্টটি। মো: রাসেল নামের স্থানীয় এক যুবক বললেন, আমি একটি ট্রলারের মালিক। নদীপাড়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ট্রলারে করে নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরে নিয়ে যেতাম। গত ৯মাস ধরে ঘাটে পর্যটক আসা কমতে কমতে এখন শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, বিকেল হলেই নৌকায় চড়ে তরুণরা নদীতে ঘুরতে যেত, জানালেন এখন সব স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে। ২নং ইউপি ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রোকন দেওয়ান বলেন, বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে, এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, কেবল কথা দিয়ে পরিস্থিতি সামলানো যাবে না।
ঘাটের পাড়ে বালির বস্তা দেওয়া যেত। নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা যেত। কেউ কিছু করেনি, অভিযোগ জান্নাতুল ফেরদৌস নামে স্থানীয় স্কুলশিক্ষিকার।

আলতাফ মাস্টার ঘাট শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র ছিল না; এটি ছিল একটি সামষ্টিক আবেগ, যা একে অন্যকে যুক্ত করেছিল। বর্তমানে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের একমাত্র উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশের স্থান ছিল এটি। এখন সেটি ধ্বংস হয়ে গেলে, হারিয়ে যাবে গ্রামের শিশুদের খেলার জায়গা, প্রেমিক-প্রেমিকাদের নির্জন প্রহর, নদীর জলে ঘুরে বেড়ানোর উৎসাহ।

নদী সবকিছু নিয়ে যায়, কিন্তু যদি আমরা একসাথে দাঁড়াই—তাহলে আবারও গড়ে উঠবে আলতাফ মাস্টার ঘাট, বললেন বৃদ্ধ আলতাফ মাস্টার নিজেই। তার কণ্ঠে ক্লান্তি, চোখে জল, কিন্তু একটুকরো আশার ঝিলিক ঠিকই টের পাওয়া যায়।

রায়পুরের মানুষ জানে, নদী গিলে খেতে পারে মাটি, কিন্তু তারা হার মানতে জানে না। সেই লড়াইয়ের গল্পই হয়তো একদিন আবার শুরু হবে আলতাফ মাস্টার ঘাটের নতুন ইতিহাস দিয়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd