রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
রামগঞ্জ উপজেলায় ১৯টি ইটভাটায় প্রতি বছর ইট উৎপাদনে পুড়ছে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট মাটি, যার বেশিরভাগই সংগ্রহ করা হচ্ছে ফসলি জমির টপসয়েল ও পুকুর খননের মাধ্যমে। এতে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে কৃষিজমি ও ফসল উৎপাদন।
ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৯ ও সংশোধিত বিধি অনুযায়ী আবাদি জমিতে ইটভাটা স্থাপন ও কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে এসব আইন মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনুমোদিত ৩ একরের পরিবর্তে অনেক ভাটায় ৭–৮ একর বা তার বেশি জমি দখল করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিটি ভাটায় গড়ে ৭০–৮০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। সে হিসাবে উপজেলায় বছরে প্রায় ১৫ কোটি ইট উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ টপসয়েল নষ্ট হচ্ছে। সার্ভেয়ারদের মতে, এ পরিমাণ মাটির জন্য এক ফুট গভীরতায় প্রায় ১৩৯ হেক্টর জমি কাটা প্রয়োজন হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে চাষযোগ্য জমি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং প্রতি বছর ৮–১০ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টপসয়েল কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, ইটভাটার কারণে কালো ধোঁয়া, জলাবদ্ধতা ও জমি ধসে পড়ায় তারা চাষাবাদ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে জমির মাটি বিক্রি করতেও চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ সিফাত বলেন, কৃষিজমির টপসয়েল কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং বিষয়টি নিয়মিত প্রশাসনের নজরে আনা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম জানান, টপসয়েল কাটার বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা ও মামলা চলমান রয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।