• মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে রামগতিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নারী-শিশুসহ আহত ২০, অগ্নিসংযোগে পুড়েছে বসতঘর লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার, আটক ৩ রামগতিতে সেনা ক্যাম্প ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জেএসডির, অভিযোগকে মিথ্যা বলছে বিএনপি আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ: লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী ড. রেজাউল করিমকে নির্বাচন কমিশনের কঠোর সতর্কবার্তা চন্ডিপুর ইউনিয়নে হাতপাখার প্রার্থী জাকির পাটওয়ারী’র নির্বাচনী প্রচারণা লক্ষ্মীপুর-৪ চরাঞ্চলে নির্বাচনকালীন সেনা ক্যাম্প স্থাপন ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জেএসডির নির্বাচন ঘিরে লক্ষ্মীপুরে উদ্বেগ: চার আসনে ২১৮ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, মাঠে তিন হাজার নিরাপত্তা সদস্য চন্দ্রগঞ্জে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ৯ মামলার পলাতক আসামি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ভোলা, পটুয়াখালী’র সীমান্তে অবস্থিত চর-হায়দা ও চর-আজমাইনে’র বন উজার রামগঞ্জে প্রভাবশালীর দখলে সরকারি খাল, চোখের সামনে গড়ে উঠল অবৈধ সেতু

নির্বাচন ঘিরে লক্ষ্মীপুরে উদ্বেগ: চার আসনে ২১৮ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, মাঠে তিন হাজার নিরাপত্তা সদস্য

Reporter Name / ১১ Time View
Update : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মাহমুদুর রহমান মনজু :

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মোট ২১৮টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন প্রশাসন। অতীতের সহিংসতা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং অবৈধ অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সাধারণ ভোটাররা।
তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভোটকেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ এমনকি প্রাণহানির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে ভোটের আগের দিন ও ভোটগ্রহণের দিন পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। নারী ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
তবে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভোটারদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৬১ জন, যার মধ্যে পোস্টাল ভোটার ৭ হাজার ৪০ জন। লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনে ভোটার ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৬২ জন এবং পোস্টাল ভোটার ১০ হাজার ৬৩ জন। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৫ জন, পোস্টাল ভোটার ৯ হাজার ৮৬৭ জন। লক্ষ্মীপুর-৪ (কমলনগর ও রামগতি) আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১২ হাজার ২৯৩ জন, যার মধ্যে পোস্টাল ভোটার ৫ হাজার ৮৬৫ জন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, চারটি আসনে মোট ৪৯৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ২১৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের চার দিন দায়িত্ব পালন করবেন এক হাজার ৩১৩ জন পুলিশ সদস্য, ৬০০ জন সেনাসদস্য, ১০ প্লাটুন বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় তিন হাজার নিরাপত্তা সদস্য।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৩৫ জন প্রার্থী চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
এদিকে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান আরও জোরদারের দাবি ওঠে। সভায় জানানো হয়, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকা এবং মেঘনা উপকূলীয় রামগতি অঞ্চলে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।
জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ লাখ ৩৭ হাজার ৯০৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৭ লাখ ৯০ হাজার ২৫৭ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৭ জন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী আগের সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ৭ লাখ ১ হাজার ৩২৮ জন।
থানাভিত্তিক কেন্দ্র বিন্যাস অনুযায়ী লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় ১২২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৬টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২০টি সাধারণ। রায়পুর উপজেলায় ৮২টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৪৭টি গুরুত্বপূর্ণ ও ৯টি সাধারণ। রামগঞ্জ উপজেলায় ৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ৬৩টি গুরুত্বপূর্ণ। রামগতি উপজেলায় ৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ও ৩৫টি সাধারণ। কমলনগর উপজেলায় ৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৩৬টি গুরুত্বপূর্ণ ও ৩টি সাধারণ কেন্দ্র। চন্দ্রগঞ্জ থানার অধীনে রয়েছে ৭৭টি কেন্দ্র, যার মধ্যে ৪০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২১টি গুরুত্বপূর্ণ ও ১৩টি সাধারণ।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় জানায়, পাঁচটি নির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার ও র‍্যাব মোতায়েন থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিত করার বিধানও রয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, “ভোটাররা যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান বলেন, “শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd