
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, কেউ আমাকে প্রলোভন দেখিয়ে কোন দুর্নীতির আশ্রয় নিবে, এ সুযোগ আমার মধ্যেও থাকবে না, কাউকে দিবও না। এটা আমার প্রতিশ্রুতি, এটা আমার অঙ্গীকার। এটা আমার ফ্যামিলি থেকে পেয়েছি, আমার ছাত্র রাজনীতি থেকে পেয়েছি। আমার প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে থেকে কাজ করার সুবাদে পেয়েছি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাব আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লক্ষ্মীপুর টাউন হল ও পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। এ্যানি লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আমি এতো অত্যাচার নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছি, হয়তোবা আমার মৃত্যু হতে পারতো। আমার শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে যে সন্মান দিয়েছে, আমি যেন সারাটা জীবন এ সন্মানটা ধরে রাখতে পারি।
মন্ত্রণালয়ের কাজে সবার পরামর্শ আহ্বান করে
এ্যানি বলেন, আমি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছি, সে কাজটা হলো পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের। এ মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বেশি ভাঙন এলাকা আমাদের রামগতি, সদর এবং রায়পুরে। লক্ষ্মীপুর এবং দেশের জন্য আগামীদিনে কিছু করা এ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে।
মন্ত্রী এ্যানি বলেন, কোন রাজনৈতিক প্রভাবে কারণে, দলীয় প্রভাবের কারনে কোন সাধারণ মানুষ, সাধারণ ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই সুযোগ থাকবে না। আমার ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব, এটা একটা আমানত। এই কঠিন দায়িত্ব পালনে করার জন্য আমি সজাগ এবং সতর্ক আছি। আমাদের দেশে দুর্নীতি চেয়ে গেছিলো। আমাদের এই দুর্নীতিমুক্ত একটা পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি করা আরেকটি কঠিন চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ৫ দিন হয়েছে আমরা শপথ নিয়েছি। বিএনপি সরকার দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বিরোধী দলের যারা রয়েছেন, আমরা আশা করেছিলাম যেদিন আমরা শপথ নেবো, সেদিন বিরোধীদল উপস্থিত থাকবেন। আশা করেছিলাম, তারা আমাদেরকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবেন। প্রথমদিন থেকেই আমরা সেই আশা নিয়ে বসে আছি এবং সামনের দিনগুলোতেও থাকবো। একটা সরকার শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের কর্মকান্ড শুরু হয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য যে যুদ্ধ, দীর্ঘদিনের যে প্রত্যাশা-আকাঙ্খা, আন্দোলন-সংগ্রাম, সেদিন যদি উনারা উপস্থিত থাকতেন, তাহলে ভবিষ্যতের গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া সুন্দর হতো। হয়তো অতটুকু চিন্তা উনারা করেননি। কিন্তু এখন থেকে চিন্তা করতে হবে বিরোধী দলকে।
বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগীতা প্রয়োজন। ভোটের পরিবেশ কেমন ছিল, ভোটটা কেমন হয়েছে, কতটুকু চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমরা ভোট করেছি, যার যার অবস্থান থেকে এটা ছিল দৃশ্যমান। কিন্তু ভোট হওয়ার দিন থেকেই আমি যদি বলি ভোটটা ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, ম্যানেজ ইলেকশন হয়েছে, এটা আমাদেরকে আহত করে। এই বক্তব্যটি না দিয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াটা একটা দৃষ্টান্ত হতে পারে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আমাদের বিরোধী দলের অবস্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রয়েছেন। আমরা এবং আপনাদেরকে সত্যিকারভাবে জনগণের আকাঙ্খা-প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য একটা দেশপ্রেমিক সরকার থাকবে। দেশপ্রেমিক সরকারের অংশ হিসেবে বিরোধীদলের মতের পার্থক্য থাকতে পারে, পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের প্রয়োজনে আমরা এক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করবো।
বিএনপির এ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান, এখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের দুটি সভায় উনার বক্তব্য এবং কথাগুলো শোনার সুযোগ হয়েছে। উনি বড় একজন পাহারাদার হিসেবে দেশের জন্য কাজ করবেন বলে আমার বিশ্বাস হয়েছে। উনি সততাকে বেশি মূল্যায়ন করবেন বা করছেন। প্রথমদিন থেকেই উনি প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়-মন্ত্রী ও ডিপার্টমেন্টের ব্যাপারে একটিভ।
লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আ হ ম মোশতাকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম পাবেলের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমীর এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ননী গোপাল ঘোষ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জেড এম ফারুকী ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন পাঠান প্রমুখ।